২০২৭ স্কুল ভর্তিতে নতুন নিয়ম, কোটা থাকছে ১৫% পর্যন্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৪৫, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রমে নতুন কোটা পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) তৈরি খসড়া নীতিমালায় সরকারি স্কুলে মোট ১৪ শতাংশ এবং বেসরকারি স্কুলে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ কোটা রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তবে এখনো চূড়ান্ত হয়নি এ নীতিমালা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও পরবর্তী আলোচনার পর কোটা ও ভর্তি সংক্রান্ত বিধানে পরিবর্তন আসতে পারে।
মাউশি সূত্র জানিয়েছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি নীতিমালার খসড়া ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এতে বিভিন্ন শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তি এবং কোন শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে, সে বিষয়েও নির্দেশনা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সরকারি স্কুলে ১৪ শতাংশ কোটা
খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মোট ১৪ শতাংশ আসন বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে—
বীর মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ২ শতাংশ
যমজ শিক্ষার্থীদের জন্য ২ শতাংশ
সহোদর ভাই-বোনের জন্য ৩ শতাংশ
সরাসরি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ
মন্ত্রণালয়ের অধীন অধিদপ্তর, দপ্তর ও সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ
বেসরকারি স্কুলে ১৫ শতাংশ
বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সরকারি স্কুলের মতো ১৪ শতাংশ কোটা রাখার পাশাপাশি লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের শিশুদের জন্য অতিরিক্ত ১ শতাংশ কোটা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে মোট কোটা দাঁড়াবে ১৫ শতাংশ।
লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের শিশুদের মূলধারার শিক্ষায় যুক্ত করার লক্ষ্যেই এই অতিরিক্ত কোটা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আওতায় তারা নিকটস্থ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে।
ঢাকার সরকারি স্কুলে ৪০% ক্যাচমেন্ট কোটা
রাজধানীর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ক্যাচমেন্ট এরিয়া কোটা বহাল রাখারও প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিবারের কাছাকাছি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করতে ঢাকা মহানগরের সরকারি স্কুলগুলোতে ক্যাচমেন্ট এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
মাউশি সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর ক্যাচমেন্ট এরিয়া নির্ধারণ করে তা জানাবে।
এ ছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের মোট আসনের ১০ শতাংশ স্বতন্ত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাড়ছে সহোদর কোটা
খসড়া নীতিমালায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলোর একটি হলো সহোদর কোটার আসন বাড়ানোর প্রস্তাব। বর্তমানে থাকা ব্যবস্থার তুলনায় এটি বাড়িয়ে ৩ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, ভর্তির খসড়া নীতিমালা তৈরি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে আলোচনার পর প্রয়োজন হলে নীতিমালায় পরিবর্তন আসতে পারে।
তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী, যমজ এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য আগের কোটা রাখা হয়েছে। এবার সহোদর কোটার পরিমাণ বাড়িয়ে ৩ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
একই প্রতিষ্ঠানে ভাই-বোনের পড়াশোনার সুযোগ বাড়ানো এবং অভিভাবকদের ভোগান্তি ও নিরাপত্তাহীনতা কমানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সহোদর কোটা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এফএইচ/বিএ/পিআর